Skyscraper City Forum banner
1 - 1 of 1 Posts

·
Registered
Joined
·
658 Posts
Discussion Starter · #1 ·
টাকায় ঢাকা

http://www.prothom-alo.com/life_style/article/209482/টাকায়_ঢাকা




নিজাম বিশ্বাস | আপডেট: ১৪:১২, মে ০৬, ২০১৪



০ Like



ঢাকা ঘুরে ফিরে এসেছে টাকায়। চিত্রশিল্পী ও মুদ্রাবিশারদ মুর্তজা বশীরের ব্যক্তিগত সংগ্রহ অবলম্বনে টাকায় ঢাকার এই উপস্থিতি তুলে ধরেছেন নিজাম বিশ্বাস। টাকার ছবি তুলেছেন জিয়া ইসলাম

বাংলাদেশের প্রথম কাগজের মুদ্রা টাকার বুকে আঁকা হয়েছে নবীন এ দেশের মানচিত্র। সেই মানচিত্রে একটি বিন্দুর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে রাজধানী ঢাকার অবস্থান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তারা মসজিদ, লালবাগ কেল্লা, কার্জন হল এবং মহান ভাষা আন্দোলনের প্রতীক শহীদ মিনারসহ ১০টি বিখ্যাত স্থাপত্য উঠে এসেছে টাকার নোটে।

তারা মসজিদ

পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় অবস্থিত তারা মসজিদ অষ্টাদশ শতকের একটি উল্লেখযোগ্য স্থাপত্য নিদর্শন। সপ্তদশ শতকে দিল্লি, আগ্রা ও লাহোরে নির্মিত মোগল স্থাপত্য শৈলী অনুসারে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রথম থেকেই মসজিদটির সাদা মার্বেল পাথরের গম্বুজ ছিল নীল রঙের তারার নকশাযুক্ত। সেই থেকে মসজিদটি ‘তারা মসজিদ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। তারা মসজিদ ছাড়াও স্থাপত্যটির আরও কিছু প্রচলিত নাম রয়েছে, যেমন ‘মির্জা গোলাম পীরের মসজিদ’ বা ‘সিতারা মসজিদ’। বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৬ সালে তারা মসজিদকে বিষয় করে ৫ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত সবগুলো ব্যাংক নোটের একটা সিরিজ প্রকাশ করে। পরের বছর ১০০ টাকার পরিবর্তিত নকশায়ও যথারীতি তারা মসজিদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। বর্তমানে প্রচলিত ১০০ টাকা মূল্যমানের নোটেও রয়েছে পুরান ঢাকার এ নয়নাভিরাম স্থাপত্যটি।

সুপ্রিম কোর্ট

রাজধানী ঢাকার রমনায় অবস্থিত সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের মূল ভবনটি প্রথমবারের মতো এ দেশের কাগজের মুদ্রায় বিষয় হয়েছে ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোটে। ১৯৯৮ সালে নোটটির নকশায় পরিবর্তন লক্ষ করা গেলেও সুপ্রিম কোর্টের ছবি আগের মতোই ছিল। ২০০০ ও ২০০২ সালেও এই স্থাপত্যের উপস্থিতি বজায় রেখেই নতুন নতুন চেহারায় দেখা দেয় ৫০০ টাকার নোট।

লালবাগ কেল্লা

ঢাকার লালবাগে অবস্থিত বলে আমরা তাকে লালবাগ কেল্লা হিসেবে জানি। শুরুর দিকে অবশ্য নাম ছিল ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদ’। এটি মোগল আমলে নির্মিত বাংলাদেশের একমাত্র ঐতিহাসিক নিদর্শন, যেখানে একই সঙ্গে ব্যবহূত হয়েছে কষ্টি পাথর, মার্বেল পাথর আর রংবেরঙের টালি। ১৬৭৮ সালে লালবাগ কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন তত্কালীন মোগল শাসক আজম শাহ। এই দুর্গের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার প্রায় এক বছরের মাথায় বাবার ডাকে আজম শাহকে চলে যেতে হয় দিল্লিতে মারাঠা বিদ্রোহ দমন করার জন্য। এ কারণে নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময় শায়েস্তা খাঁ পুনরায় কেল্লার নির্মাণকাজ শুরু করেন। শায়েস্তা খাঁর মেয়ে পরী বিবি মারা যাওয়ার কারণে চার বছরের মাথায় নির্মাণকাজ আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ১০০ টাকার নোটে বিষয় হয়েছে পুরান ঢাকার এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি।

লালবাগ কেল্লা মসজিদ

লালবাগ দুর্গের পশ্চিম অংশে কেল্লা মসজিদ বা শাহী মসজিদ নামে পরিচিত এ মসজিদটি নির্মিত হয়। ধারণা করা হয় যে, দুর্গের ভিতরে প্রথম স্থাপনা হিসেবে বানানো হয়েছিল এ মসজিদটি। এর নির্মাণ কাজ পুরো দুর্গের নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। মোগল স্থাপত্য রীতির প্রথম বড় ধরনের প্রয়োগ ঘটে এই স্থাপত্যে। পুরো স্থাপত্যটি পলেস্তারায় আচ্ছাদিত এবং সামনের দিকে ছোট ছোট খোপে বিভক্ত। চারকোণ-সংলগ্ন পার্শ্ব বুরুজগুলো ক্রমহ্রাসমান এবং এগুলোতে রয়েছে সমদূরত্বে সমান্তরাল ব্যান্ড নকশা। পুরান ঢাকার এই লালবাগ কেল্লা মসজিদ ১৯৯৭ সালে ১০ টাকার নোটে বিষয় হয়েছে।

সাত গম্বুজ মসজিদ

ঢাকার মোহাম্মদপুরে কাটাসুর থেকে বাঁশবাড়ি হয়ে শিয়া মসজিদের দিকে একটি রাস্তা চলে গেছে। এই রাস্তা ধরে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে ‘সাত গম্বুজ মসজিদ’। ছাদে তিনটি আর চারকোণে চারটি গম্বুজ থাকার কারণে স্থাপত্যটির এমন নাম হয়েছে। ধারণা করা হয়, ১৬৮০ সালে মোহাম্মদপুরের জাফরাবাদে মসজিদটি নির্মাণ করেন সুবেদার শায়েস্তা খাঁ। একসময় মসজিদের পাশ দিয়ে গড়িয়ে যেত বুড়িগঙ্গার জলরাশি। মসজিদের ঘাটেই নোঙর ফেলত নৌকা-স্টিমার। ১৯৭৯ সালে প্রকাশিত ৫০ টাকার নোটে এ মোগল স্থাপত্যটি উঠে এসেছে।

জাতীয় সংসদ ভবন

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ভবন ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত। বিশ্ববিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের নকশায় সংসদ ভবনের কাজ শুরু হয় ১৯৬১ সালে। ১৯৮২ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। জাতীয় সংসদ ভবনকে ঘিরে আছে সুদৃশ্য বাগান, কৃত্রিম হ্রদ এবং সাংসদদের আবাসস্থল। বাংলাদেশের কাগজের মুদ্রায় স্থাপত্যটি সর্বপ্রথম দেখা যায় ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত ৫০ টাকা মূল্যমানের নোটে। ১৯৯৯ সালে ৫০ টাকার নোটের নকশা পরিবর্তন হলেও সংসদ ভবনের ছবি ছিলই। ২০০০ সালে প্রকাশিত ১০ টাকা মূল্যমানের পলিমার ব্যাংক নোট এবং ২০০২ সালের নতুন ১০ টাকার নোটেও স্থাপত্যটি স্থান পায়। বর্তমান বাজারে প্রচলিত ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটে রয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের প্রতিচ্ছবি।

বায়তুল মোকাররম মসজিদ

পুরান ঢাকা ও নতুন ঢাকার মিলনস্থলে এ মসজিদটির জন্য জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। স্থানটি একসময় ঢাকা নগরের প্রধান বাণিজ্যওকেন্দ্রের নিকটবর্তী। স্থপতি টি আবদুল হুসেন থারিয়ানির নকশায় এর নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৬০ সালে। মসজিদের প্রধান কক্ষটির তিন দিকে বারান্দা, মিহরাবটি আয়তাকার। আধুনিক স্থাপত্যে কম অলংকরণই একটি বৈশিষ্ট্য, যা এই মসজিদে লক্ষণীয়। এর অবয়ব অনেকটা কাবা শরিফের মতো। ২০০০ সালে সর্বপ্রথম বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ স্থান পায় ১০ টাকা মূল্যমানের পলিমার নোটে। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র পলিমার নোট। বিশ্বে ১৭তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এ ধরনের ব্যাংক নোট প্রকাশ করে। পরবর্তী সময় পলিমার নোটের পরিবর্তে কাগজের নোট বাজারে ছাড়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, যেখানে নকশা কিছুটা পরিবর্তন করা হলেও জাতীয় মসজিদের উপস্থিতি একই রকম ছিল। বর্তমান সময়ের ১০ টাকার নোটের পিছনেও রয়েছে ঢাকার এই স্থাপত্যটি।

শহীদ মিনার

মায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সন্তানেরা নিজেদের উত্সর্গ করেছেন। এই আত্মত্যাগের মহিমায় গর্বিত মা স্নেহ আর ভালোবাসায় একটু মাথা ঝুঁকিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন চার সন্তানকে; আর চার সন্তানের মধ্যে দেশমাতৃকা দেখছেন তাঁর লাখো-কোটি সন্তানকে। অনন্তকাল ধরে মা আগলে রাখছেন তাঁর সন্তানদের। শহীদ মিনারের স্তম্ভগুলো এভাবে মাতৃভূমি-মাতৃভাষা এবং মাতৃরূপের সঙ্গে দেশমাতৃকার সন্তানদের প্রতীক। শিল্পী হামিদুর রহমান ও নভেরা আহমেদের নকশায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ-সংলগ্ন এ স্মৃতিস্তম্ভটি ১৯৮৮ সালে প্রকাশিত দুই টাকার নোটে প্রথমবারের মতো স্থান পায়। ২০১১ সালে রাশিয়ার একটি ওয়েবসাইটে ভোটাভুটির মাধ্যমে নোটটি বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কাগুজে মুদ্রা হিসেবে নির্বাচিত হয়। সে বছরই সরকার নোটটির নকশা পরিবর্তন করে, পরিবর্তিত নকশায় শহীদ মিনারের ছবি রাখা হলেও দোয়েল পাখির স্থানে বসানো হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমবারের মতো বাজারে ছাড়ে ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট, নোটটির সামনের অংশে আবারও উঠে আসে ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে হাইকোর্টের সামনের রাস্তায় আর দুপুরে রথখোলা ও সংবাদ অফিসের কাছে মাতৃভাষার দাবিতে প্রাণ হারান রফিক, বরকত, জব্বার, সালামসহ নাম না-জানা আরও অনেকে। ভাষা আন্দোলনের ৬০ বছর উপলক্ষে প্রকাশিত ৬০ টাকা সমমূল্যের স্মারক নোটে শহীদ মিনারসহ ভাষা শহীদদের প্রতিকৃতি দেখা যায়।

কার্জন হল

এই স্থাপত্যটির নাম রাখা হয় ব্রিটিশ ভারতের তত্কালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জনের নামানুসারে। ১৯০৪ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। বঙ্গভঙ্গ ঘোষিত হওয়ার পর প্রাদেশিক রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তোলার জন্য রমনা এলাকায় যেসব স্থাপত্যের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, তার মধ্যে অন্যতম এই কার্জন হল। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হওয়ার পর ঢাকা কলেজের ক্লাস নেওয়া হতে থাকে কার্জন হলে। পরবর্তী সময় ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে কার্জন হল অন্তর্ভুক্ত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের জন্য, যা আজও অব্যাহত আছে। ইন্দো-সারাসেনিক রীতির এই স্থাপত্যটি বিষয় হয়েছে ২০০৮ সালে প্রকাশিত ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোটে।

জাতীয় জাদুঘর

বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর রাজধানী ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত। ১৯১৩ সালে জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। শাহবাগ এলাকায় জাতীয় জাদুঘরের আধুনিক বৃহদায়তন ভবনের উদ্বোধন করা হয় ১৯৮৩ সালে। ২০১৩ সালে জাতীয় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ১০০ বছর উপলক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংক ১০০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক নোট প্রকাশ করে। আট একর জমির ওপর নির্মিত চারতলা এ ভবনের ছবি ওই স্মারক নোটে উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের কাগজের মুদ্রায় দেশীয় রাজনীতির পালাবদল তীব্রভাবে চোখে পড়ে। দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সরিয়ে দিয়ে পরবর্তী সরকার মুদ্রায় তুলে আনে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। শাসক দল পরিবর্তন হলে আবারও বঙ্গবন্ধু প্রতিকৃতি যুক্ত হয় টাকার নোটে। রাজনীতির এ পালাবদলে বাংলাদেশি টাকার নকশায় ধরা পড়ে নানা বৈচিত্র্য, যা কাগজের মুদ্রা সংগ্রাহক ও গবেষকদের আগ্রহী করে তোলে। বিশ্বের অনেক দেশের কাগজের মুদ্রায়ই বিষয়বস্তু হিসেবে দেখা যায় সেসব দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য। বাংলাদেশের টাকায়ও দীর্ঘ দিন ধরে ঠিক তেমনি স্থাপত্যের ছড়াছড়ি রয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিভিন্ন সময় উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকার অনেক স্থাপত্য ও স্মৃতিফলক। পাকিস্তান আমলের কাগজের মুদ্রায় বিষয় হিসেবে ঢাকার কোনো প্রসঙ্গ না থাকলেও ৫০০ ও ১০০ টাকার (তত্কালীন রুপিতে) নোটে ‘ঢাকা’ শব্দটি যথাক্রমে বাংলাসহ উর্দু ও শুধু উর্দুতে অতিমুদ্রিত হয়েছিল।

এই ফিচারে উল্লেখিত সব টাকার ছবি দেখতে ক্লিক করুন


 
1 - 1 of 1 Posts
This is an older thread, you may not receive a response, and could be reviving an old thread. Please consider creating a new thread.
Top